সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে

Bank Bima Shilpa    ০১:৪২ পিএম, ২০১৯-১০-১০    1129


সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমছে

 
ব্যাংক বীমা শিল্প ডেস্ক
সঞ্চয়পত্রে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করায় নানান পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মিলছে সুফলও । চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সঞ্চয়পত্র নিট বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে নিট সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ছিল নয় হাজার ৫৭ কোটি টাকা।


জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের সব লেনদেন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দুর্নীতি কিংবা অপ্রদর্শিত আয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধ করতে ক্রেতার তথ্যের একটি ডাটাবেসে সংরক্ষণের লক্ষ্যে অভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে।
এছাড়া সঞ্চয় পত্রে বড় বিনিয়োগে কঠোর হয়েছে সরকার। চাইলেই ভবিষ্য তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ নেই। এখন প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে কর কমিশনারের প্রত্যয়ন লাগে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ফার্মের নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগছে উপকর কমিশনারের প্রত্যয়ন। এসব কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ১১ হাজার ৩০৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মূল ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয় ৪ হাজার ৭৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর দুই মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার গেল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ঋণ নেয়।
অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য ছিল সরকারের। বিক্রি বাড়তে থাকায় সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ঠিক করা হয়। কিন্তু অর্থবছর শেষে নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের এ খাতের ঋণ গত অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের চেয়ে তিন হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।
এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয় ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার পেয়েছিল ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।


জানা গেছে, এর আগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে সর্বশেষ ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ করে কমানো হয়েছিল।
বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০১৫ সালের ২৩ মের পর থেকে এই হার কার্যকর আছে। এর আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমগুলোতে বিনিয়োগকৃত অর্থের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা প্রদান করে সরকার। মেয়াদপূর্তির পরে বিনিয়োগকৃত অর্থও ফেরত প্রদান করা হয়। প্রতি মাসে বিক্রি হওয়া সঞ্চয় স্কিমগুলো থেকে প্রাপ্ত বিনিয়োগের হিসাব থেকে আগে বিক্রি হওয়া স্কিমগুলোর মূল ও মুনাফা বাদ দিয়ে নিট ঋণ হিসাব করা হয়। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেটে নির্ধারিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
 


রিটেলেড নিউজ

এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

Bank Bima Shilpa

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন লাইফ  বীমা কোম্পানী  এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন... বিস্তারিত

জাফর আহমেদ বিএপিএলসি‘র সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পরিবারের শুভেচ্ছা

জাফর আহমেদ বিএপিএলসি‘র সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পরিবারের শুভেচ্ছা

Bank Bima Shilpa

বিবিএস নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এর চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারী বাংলাদà... বিস্তারিত

তারেক রহমান এর সঙ্গে পপুলার লাইফের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম’র সাক্ষাৎ

তারেক রহমান এর সঙ্গে পপুলার লাইফের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম’র সাক্ষাৎ

Bank Bima Shilpa

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: গুলশানে বিএনপি’র চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারà¦... বিস্তারিত

ন্যাশনাল লাইফ পিএলসি’র ৪০তম এজিএমএ ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ন্যাশনাল লাইফ পিএলসি’র ৪০তম এজিএমএ ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

Bank Bima Shilpa

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাইফ বীমা খাতের কোম্পানী  ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স... বিস্তারিত

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র ৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

Bank Bima Shilpa

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ননলাইফ বীমা কোম্পানী  কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি&... বিস্তারিত

সর্বশেষ

PRICE SENSITIVE INFORMATION of Continental Insurance

PRICE SENSITIVE INFORMATION of Continental Insurance

Bank Bima Shilpa

PRICE SENSITIVE INFORMATION of Continental Insurance ... বিস্তারিত

সেপ্টেম্বরে মোট দুর্ঘটনা ৪৪২, নিহত ৪২৩ আহত ৬৭৪ দুর্গাপুজায় নিরাপদ যাত্রার প্রত্যাশা জেওএসপি'র

সেপ্টেম্বরে মোট দুর্ঘটনা ৪৪২, নিহত ৪২৩ আহত ৬৭৪ দুর্গাপুজায় নিরাপদ যাত্রার প্রত্যাশা জেওএসপি'র

Bank Bima Shilpa

নিজস্ব প্রতিবেদক: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিà¦... বিস্তারিত

ময়নমসিংহ অঞ্চলে পপুলার লাইফের ৬ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার বীমা দাবী পরিশোধ

ময়নমসিংহ অঞ্চলে পপুলার লাইফের ৬ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকার বীমা দাবী পরিশোধ

Bank Bima Shilpa

বিবিএস নিউজ ডেস্ক: দ্রুত বীমা দাবী পরিশোধের লক্ষ্য নিয়ে পপুলার লাইফের চলমান বিশেষ কার্যক্রমের অংà¦... বিস্তারিত