শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:১০ এএম
বাঙালি জাতিসত্তার সাথে তিন হুমায়ুন ওতপ্রোতভাবে জড়িতো। বলতে পারি আমাদের শৈশব থেকেই আমরা এই তিন হুমায়ুনদের জাদু শৈলীর সাথে যুক্ত। একজন যেমন কলমের জাদুতে আচ্ছন্ন করেছেন তার সৃষ্টির মাধ্যমে অন্যজন তেমনি অভিনয়ের দিয়ে। তৃতীয় জন আবার মুক্ত চিন্তার জনক। বলিছ হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন ফরিদী এবং হুমায়ুন আজাদের কথা।
হুমায়ূন আহমেদ তার ‘রজনী’ কাব্যগ্রন্থে উৎসর্গপত্রে লিখেছিলেন, ‘মহিলা সমিতির সামনে দেখলাম ছোটখাটো একটা জটলা, এগিয়ে গিয়ে দেখি যুবক বয়স্ক এক লোক চা খাচ্ছে, আর একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে চা খাওয়া দেখছে, যুবকটি হুমায়ুন ফরিদী। আমার
এই বইটি সেই যুবককে উৎসর্গ করলাম।’
তিনি ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তার অবস্থান ছিল তৃতীয়। ছোটবেলায় ছন্নছাড়া স্বাভাবের জন্য ফরিদীকে ‘পাগলা’ ‘সম্রাট’,‘গৌতম’—এমন নানা নামে ডাকা হত। তিনি ১৯৬৫ সালে পিতার চাকরীর সুবাদে মাদারিপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ ভর্তি হন। এ সময় মাদারিপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। তার নাট্যঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ। তখন নাট্যকার বাশার মাহমুদের ‘শিল্পী নাট্যগোষ্ঠী নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে কল্যাণ মিত্রের ‘ত্রিরত্ন’ নাটকে ‘রত্ন’ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জীবেন সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে অভিনয় করেন।
এরপর এই সংগঠনের সদস্য হয়ে ‘টাকা আনা পাই’ ‘দায়ী কে’ ‘সমাপ্তি’ ‘অবিচার’সহ ৬টি মঞ্চ নাটকে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।। নয় মাসের যুদ্ধ পরে লাল-সবুজের পতাকা হাতে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। এরপরে টানা পাঁচ বছর বহেমিয়ান জীবন কাটিয়ে শেষে অর্থনীতিতে অনার্স-মাস্টার্স করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আল-বেরুনী হলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সংস্পর্শে আসেন। এই ক্যাম্পাসেই ‘আন্তস্থ ও হিরনন্ময়ীদের বৃত্তান্ত’ নামে একটি নাটক লিখে নির্দেশনা দেন এবং অভিনয়ও করেন ফরিদী। সেলিম আল দীনের ‘সংবাদ কার্টুন’-এ একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করে ফরিদী মঞ্চে উঠে আসেন। মঞ্চে তার সু-অভিনীত নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘শকুন্তলা’ ‘ফনিমনসা’ ‘মুন্তাসির ফ্যান্টাসি’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। তিনি ১৯৯০ সালে স্ব-দির্দেশিত ‘ভূত’ দিয়ে শেষ হয় ফরিদীর ঢাকা থিয়েটার জীবন।
মঞ্চ থেকে টিভি নাটকে অভিনয় করেন। টিভি নাটক থেকে নিতান্তই পেটের তাগিদে এসেছিলেন চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায়। যেখানে গিয়েছেন তিনি, সেখানেই নিজ অভিনয় প্রতিভার গুণে জয় করেছেন দর্শকহৃদয়। ফরিদী বড় পর্দার বাণিজ্যিক এবং বিকল্প ধারা মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর ভিতর প্রথম ছিলো তানবীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে ‘সন্ত্রাস’ ‘বীরপুরুষ’, ‘দিনমজুর’, ‘লড়াকু’, ‘দহন’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘কন্যাদান’, ‘দুর্জয়’, ‘বিচার হবে’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
নাটকে অসামান্য অবদানের জন্য হুমায়ুন ফরিদীকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা প্রদান করেন। ২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ ছবিতে সেরা অভিনেতা হিসেবে পান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরাস্কার। এছাড়া নৃত্যকলা ও অভিনয় শিল্পের জন্য ২০১৮ সালে (মরণোত্তর) একুশে পদক লাভ করেন।
... বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি কালারস মাল্টিমিডিয়া কর্তৃক আয়োজিত প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁ-এ কà... বিস্তারিত
বিবিএস নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাà... বিস্তারিত
২৯ জুলাই, ১৯৮৫ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ জà... বিস্তারিত
সংখ্যায় কম হলেও দেশে গুণী মানুষ আছেন, তাই তো সমাজ এখনো সুন্দরভাবে চলছে। নীরবে নিভৃতে তাঁরা পরিপাশর... বিস্তারিত
শহর এবং গ্রামের অসম উন্নয়ন বাংলাদেশের সামগ্রীক উন্নয়নের একটি বড় বাধা। একটি গ্রামের আয়তন কত, সেখানà... বিস্তারিত
... বিস্তারিত
PRICE SENSITIVE INFORMATION of Continental Insurance ... বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিà¦... বিস্তারিত
বিবিএস নিউজ ডেস্ক: দ্রুত বীমা দাবী পরিশোধের লক্ষ্য নিয়ে পপুলার লাইফের চলমান বিশেষ কার্যক্রমের অংà¦... বিস্তারিত