শুভ উদ্যোগের শুভ কামনা

Bank Bima Shilpa    ১২:৫০ পিএম, ২০২০-১২-২০    573


শুভ উদ্যোগের শুভ কামনা

মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে শুদ্ধাচার নীতিমালার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পুরষ্কার বিতরণ আমাদের মনকে নাড়া দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ চায় আমরা শুদ্ধ হয়ে যাই কিন্তু নন-লাইফ বীমার কর্মীরা যতই শুদ্ধ থাকার চেষ্টা করি না কেন তা যেন কোন না কোন কারণে শুদ্ধ থাকতে পারছি না।
বীমা একটি সর্বজন স্বীকৃত বিষয়। সর্বস্তরের জনগণ এবং তাদের সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকার লাইফ এবং নন-লাইফ বীমা কোম্পানীর অনুমোদন দিয়েছেন। বর্তমান করোনা মহামারীতে একমাত্র নন-লাইফ বীমা কোম্পানীগুলো তাদের সকল কর্মীদের বেতন বোনাস দিতে পেরেছে, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। আর এর পেছনে কাজ করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ৬৪ এবং ৭৫নং সার্কুলার এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন ও এসোসিয়েশনের কমিটির সকল সদস্যের নিরলস প্রচেষ্টা বিশেষ করে “কারো ব্যবসা কেউ করতে পারবে না” এই ব্যাপারে গৃহীত “জেনট্যালম্যান এগ্রিম্যান্ট” এবং অভিযোগ শুনানী কমিটির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা আমাদের খানিকটা স্বত্বি এনে দিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নন-লাইফ বীমা কোম্পানীগুলো অনেকটা শুদ্ধাচরে ফিরে আসছে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসাসিয়েশন আইডিআরএ কর্তৃক ৬৪ নং সার্কুলার জারির পর জুলাই ২০১৯ থেকে এই ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। তবুুও বীমা মার্কেট সব সময়ই টল টলায়মান। তারপর আবার করোনার মহামারী। তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীর বীমা কর্মীরা সর্বদা মাঠে ঘাটে ঘুরে ঘুরে শহর এবং মফস্বলের আনাচে কাঁনাচে থেকেই ছোট ছোট ব্যবসা সংগ্রহ করে নিজের এবং কোম্পানীর আর্থিক অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করে থাকেন। অন্য দিকে ১ম বা ২য় প্রজন্মের কোম্পানীগুলো তাদের নির্ধারিত ব্যবসার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকে এবং তাদের বীমা কর্মীদের কিন্তু কখনো বেতন ভাতার কোন সমস্যা হয় না। তাদের লাইফ ষ্টাইল এবং তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীতে যারা চাকুরী করেন তাদের লাইফ ষ্টাইল এক নয়। যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকলকে সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।
তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীর বীমা কর্মীরা তাদের আহরিত প্রিমিয়ামের ভিত্তিতে বেতন পেয়ে থাকেন। তাই তাদের ব্যথা আর ১ম বা ২য় প্রজন্মের বীমা কোম্পানীর বীমা কর্মীদের ব্যথা কখনো এক হবে না। সকল কোম্পানীই তার প্রিমিয়াম আয়ের উপর সরকারের রাজস্ব আয়ে অবদান রাখছে। তাই কোম্পানীর প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে বীমা কর্মীদের স্তরভেদে বেতন ভাতার যোগ্য সম্মানী দেয়া অত্যন্ত জরুরী।
যারা শাখার দায়িত্বে রয়েছেন তাদের যেমন কোম্পানীর স্থায়ী কর্মীর স্বীকৃতি দেয়া দরকার তেমনি যে সকল বীমা কর্মী ব্যবসা করে শাখা এবং কোম্পানীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। প্রায় প্রতিটি কোম্পানীতেই শাখা ব্যবস্থাপকের সমতূল্যূ বা আরো ভালো অনেক বীমা কর্মী রয়েছেন যারা শাখার দায়িত্ব না নিয়েও শাখা ব্যবস্থাপকের সমপর্যায়ের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন।  (যেমন: গাড়ী ও অন্যান্য) তাদেরও কিভাবে স্বীকৃতি দেয়া যায় তাও ভাবার সময় এসেছে।
আইডিআরএ এবং বিআইএ ২০১২ সন থেকে সকল বীমা কোম্পানীর জন্য সুষম সাংগাঠনিক কাঠামো তৈরীতে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও বিআইএ আইডিআরএ-কে ৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে বিভিন্ন সুপারিশের সাথে সুষম সাংগঠনিক কাঠামো তৈরীর অনুরোধ জানিয়েছেন। আমরা যারা নন-লাইফ বীমায় কাজ করি আমরাও চাই তা বাস্তবায়ন হউক। সকল বীমা কোম্পানীতে কর্মরত সকল বীমা কর্মীর সমতা ভিত্তিক একটি Identity তৈরী হউক। তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ-মর্যাদা নির্ধারণ করা হউক।
বিআইএ পক্ষ থেকে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষকে ব্যবসা সংগ্রহে প্রিমিয়াম আহরণের মাত্রা অনুযায়ী কমিশন হার নির্ধারণে একটি সুপারিশ দেয়া হয়েছে, যা বাস্তব সম্মত নয়। ব্যবসার প্রিমিয়ামের পরিধির উপর ভিত্তি করে কোন কমিশন রাখা যুক্তিসংগত নহে। প্রয়োজনে আইনের প্রতি সম্মান রেখে কমিশন হার পুন: নির্ধারণ করা যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধে যে প্রক্রিয়া প্রয়োজন তা গ্রহণ করা যেতে পারে, যদি সকল পক্ষ এই ব্যাপারে একমত পোষন করেন।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন থেকে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে  এজেন্ট লাইসেন্স গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। অথচ আইডিআরএ-এর ৭৫ নং সার্কুলারে শুধুমাত্র ব্যবসা আহরণের নিমিত্তে সকল উন্নয়ন কর্মকর্তাদের এজেন্ট লাইসেন্সের কথা বলা আছে। এখন আমরা কোনটা মেনে চলবো।
একজন ব্যক্তি একদিকে অফিস কর্মকর্তা অন্যদিকে এজেন্ট এই দ্বৈত সত্তায় অফিস কর্মকর্তা হিসাবে বেতন এবং ব্যবসার জন্য এজেন্ট কমিশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।
এজেন্ট শব্দটায় কেমন যেন দালাল গন্ধ আছে। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সাথে আগারগাঁও-এ আলোচনায় এজেন্ট এর পরিবর্তে মন্ত্রী মহোদয় “বীমা কর্মী” বা Insurance Personnel বলাকে শ্রেয় বলে মত দিয়েছিলেন। নন-লাইফ বীমার ক্ষেত্রে এজেন্ট এর পরিবর্তে “বীমা কর্মী” শব্দটা ব্যবহার করা যায় কিনা তা সকল পক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিটি বীমা কোম্পানীতে ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টম্যান্ট রয়েছে এবং প্রতি বছর এক্সটারনাল অডিটর দ্বারা কোম্পানীর অডিট কাজ সম্পন্ন হয়। কোম্পানীতে প্রতি বছর লাখ লাখ ডকুম্যান্ট ইস্যু করা হয়। যা কখনো কখনো সঠিকভাবে তদারকীর অভাবে কিংবা কিছু কিছু অসৎ কর্মচারীর কারণে যে সব দুষ্কর্ম হয় সেগুলো প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আইডিআরএ সার্ভিল্যান্স টিম যদি প্রতিনিয়ত তাদের কার্যক্রম ছোট বড় সকল কোম্পানীতেই সমভাবে চালু রাখেন তবে আশা করা যায় দুষ্কর্মকারীরা সতর্ক হবে এবং বীমা কোম্পানীতে কার্যরত সকলেই সচেতন হবেন। প্রতিটি সার্ভিল্যান্স টিমে আইন, হিসাব ও বীমাজ্ঞান সম্পন্ন লোক থাকলে সুন্দর এবং সাবলীল প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। যা বীমা শিল্পে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
৭৫নং সার্কুলার ১ মার্চ, ২০২০ সাল থেকে চালু হবার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাই আইডিআরএ সার্ভিল্যান্স টিমকে বীমার প্রিমিয়াম আহরণের ভিত্তিতে এজেন্টের জন্য বীমা কমিশন এবং নিয়ম মাফিক বীমা কর্মীদের বেতনকে বিবেচনায় নিতে হবে। নতুবা ছোট বড় সকল কোম্পানীই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে বলে প্রতিপন্ন হবে। আইডিআরএ বা বিআইএ থেকে উন্নয়ন কর্মীদের বেতন প্রদানকে নিরুৎসাহিত করা হয়নি বা বেতন দিতে না করেনি তাই এখনো বিষয়টি এভাবেই চলছে।
এই বিষয়টি নিয়ে এজেন্ট + উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন সকল মহলে আলোচনা হলেও তার সমাধান এখনো হয়নি। বিআইএ’র ৩০ নভেম্বর, ২০২০ সকল কোম্পানীর চেয়ারম্যান মহোদয় ও সিইও এবং ০২ ডিসেম্বর, ২০২০ সকল সিইও-দের সাথে নিবিড় আলোচনায়ও এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আমরা আশা করতে পারি এই বিষয়টির সত্ত্বর সমাধান হবে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে সকল বীমা কোম্পানীর চেয়ারম্যান মহোদয় ও সিইও-দের নিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যায় সভায় “জেনট্যালম্যান এগ্রিম্যান্ট” ও বীমা শিল্পে এজেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আইডিআরএ-এর শক্তিশালী সার্ভিল্যান্স টিম সকল বীমা কোম্পানী পরিদর্শন করে বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রণীত সুপারিশমালা অনুযায়ী বীমা কোম্পানীগুলোর জন্য একটি গাইড লাইন প্রনয়ন করে দিলে আশা করা যায় এ সেক্টরে কর্মরত সকল পক্ষই উপকৃত হবেন।
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, সার্কুলার ৭৫ প্রথম জারির পর আমাদের বুঝার ভুলের কারণে এজেন্ট কমিশনের টাকা মার্কেটে চলে যায়। পরবর্তীতে আইডিআরএ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সতর্ক করলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়াতে ২৭ আগস্ট, ২০২০ সার্কুলার ৭৮ দ্বারা সতর্ক করা হয় যে “কমিশনটা শুধুমাত্র বীমা এজেন্টের অন্য কারোর নয়। বীমা গ্রহীতা বা অন্য কারোর জন্য এটা প্রযোজ্য নহে”। তাই সকল বীমা কোম্পানীতে এজেন্ট নিয়োগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বর্তমানে পুরোদমে চলছে।
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ৭২ ঘন্টার ট্রেনিং নেয়ার চেয়ে যারা বীমা কোম্পানীতে কর্মরত আছেন তাদের সরাসরি বা কোম্পানীর সিইও কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট এর ভিত্তিতে তাদের এজেন্ট হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া যায় কিনা তা আইডিআরএ কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার সময় এসেছে। বিআইএ কর্তৃপক্ষও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিকট এই ব্যাপারে তাদের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এজেন্ট, উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ডেক্স কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন যা এজেন্ট, বীমাকর্মীদের মান উন্নয়নে নতুন ভূমিকা রাখবে।
যে কোন কাজে পরিকল্পনা একটি বিরাট বিষয়। আইডিএরএ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত ০২ জুলাই, ২০১৯ নন-লাইফ বীমায় ৬৪নং সার্কুলার মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রিমিয়াম হিসাবে আহরিত অর্থ জমার দিক নির্দেশনা এবং একটি হিসাবের মাধ্যমে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সকল খরচাদি সম্পন্ন, মূলধন সংরক্ষণ, দাবী পরিশোধ, পুন:বীমা ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা ব্যাংক হিসাব সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে ০৪ জুলাই, ২০১৯, সাকুলার নং ৬৫ এর মাধ্যমে বীমার ষ্ট্যাম্প শুল্ক আদায় চালানের জন্য আলাদা হিসাব পরিচালনার নির্দেশনা সত্যিকার ভাবে বীমা খাতের ৫০% সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়। ইদানিং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সব বীমা কোম্পানীর হিসাব স্ক্যানিং করতে পারবে যা সকল অনিয়ম দূর করতে আরো সহায়ক হবে। বার বার বিআইএ-এর মিটিং-এ এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।
শুরুতে নন-লাইফ বীমায় এজেন্ট প্রথা তেমন গুরুত্বসহকারে চালু ছিল না। আমরা ৩৫ বছর আগে জানতাম এজেন্ট এবং এমপ্লয়ার অব এজেন্ট প্রথা বীমা শিল্পে প্রচলিত আছে। যা নন-লাইফ বীমা শিল্পে আশির দশকে কিছু কিছু প্রচলন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। পরবর্তীতে তা হারিয়ে যায়। ২০১২ সনে নন-লাইফ বীমা নড়ে চড়ে উঠে কিন্তু আস্তে আস্তে তাও হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ৭৫নং সার্কুলার বীমা শিল্পের জন্য আর্শীবাদ হয়ে আসে এবং ৭৮ নং সার্কুলার এজেন্ট কমিশন এবং বীমা গ্রহীতাদের বিষয়টির সমাধান হলেও বীমা শিল্পে কর্মরত কয়েক লাখ উন্নয়ন কর্মকর্তা যারা বিভিন্ন পদ-পদবী ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন তাদের ব্যাপারে আদৌ কোন সিদ্ধান্ত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা বিআইএ থেকে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের শ্রদ্ধেয় প্রেসিডেন্ট সাহেব এবং তার সহযোগীরা নিরন্তর বীমা কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও সিইও-দের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। দেরীতে হলেও সর্বজন স্বীকৃত বাস্তবায়নযোগ্য একটি গঠনমূলক মতামত পাওয়া যাবে যাতে সকল পক্ষই উপকৃত হবেন।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসাসিয়েশনের সুপারিশ মালায় আইডিআরএ কর্তৃক ইস্যুকৃত ৭৫ নং সার্কুলারে উল্লেখিত ১০% নীট প্রিমিয়ামের মধ্যে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রদান সম্পর্কিত অংশটি বাদ দিয়ে আলাদা সার্কুলার ইস্যু করা প্রয়োজন বলে যে মত দিয়েছেন, আমরাও সহমত পোষন করি। তবে বীমা পেশায় বড় কোম্পানীর তুলনায় ছোট কোম্পানীগুলোতে আনুপাতিক হারে বেশী লোক বীমা ব্যবসা সংগ্রহে কাজ করে থাকেন। বড় কোম্পানীগুলো সেবায় এবং মানে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীর তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীগুলো খুব কষ্ট করে অনেক কর্মীর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছোট ছোট ব্যবসা সংগ্রহ করে থাকে। যা বড় কোম্পানীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। তাই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রিমিয়াম আয়ের ১০% দিয়ে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীর পক্ষে কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার বড় কোম্পানীর জন্য ১০% অনেক টাকা। যা অনৈতিক কাজ করতে সহায়ক হবে। এর ফলে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানীগুলোর বাজারে টিকে থাকা দায় হবে। এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ন্যায় প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে বেতনের স্লাব করে দেয়া যায় কিনা তা সকল পক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিআইএ-এর সুপারিশমালার ভিত্তিতে সকল কোম্পানীকে বাধ্যতামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারাইজড সিষ্টেম চালুর সত্বর ব্যবস্থা নেয়া জরুরী এবং তার সাথে সাথে ইউএমপি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করাও প্রয়োজন। যাতে বীমা কোম্পানীও বীমা গ্রহীতা বীমার সুবিধা থেকে কোনভাবেই বঞ্চিত না হন। নন-লাইফ বীমার জন্য ইউএমপি চার্জ একবার নেয়া উত্তম কারণ আমরা বাৎসরিক ভিত্তিতে ডকুম্যান্ট ইস্যু করে থাকি।
সবচেয়ে বড় কাজ হলো বীমা গ্রহীতা, ব্যাংক, মধ্যস্বত্বভোগীদের কিভাবে বীমার নতুন নিয়মের সাথে আত্মস্থ করা যাবে। যারা দীর্ঘ ৩৫ বছর নন-লাইফ বীমার অবৈধ কমিশন খেয়ে খেয়ে জীবনের সকল সুখ ভোগ করেছেন তাদের কি সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা খুব সহজ হবে? তাঁরা যে টাকা কামিয়েছেন তার কোন হিসাব নেই; যা থেকে সরকার রাজস্ব পেতে পারেন। তাঁরা আমাদের টাকা তাদের পকেটে রেখে আয়াসী জীবন যাপন করেছেন। কমিশন বন্ধ হলে যে সবচেয়ে বেশী দুঃখ পাবেন তাঁরাই। কিভাবে তাদের নিয়ন্ত্রনে আনা যাবে তা সকল পক্ষকেই ভাবতে হবে। বর্তমান বীমা শিল্পে বীমা গ্রহীতাদের কমিশন বন্ধের যে লড়াই তা আইডিআরএ, বিআইএ বা বীমা কোম্পানীর নহে, এ লড়াইটা বীমা শিল্পে কর্মরত আপামর লাখ লাখ কর্মীর। তাই এই ব্যাপারে সকলে মিলে যুঁৎসই পরিকল্পনা তৈরী করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের পন্থা বের করতে হবে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন তাদের ০৫ নভেম্বর, ২০২০ তারিখের পত্রে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে বলেছেন। ব্যবসায়ী সমাজ, ব্যাংক এবং অন্যান্য সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনেরও রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বিভিন্ন ফেডারেশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, টেক্সটাইল, ষ্টিল মিলস, রি-রোলিং মিলস, সিমেন্ট ফিস প্রসেসিং, ইলেকট্রিক কেবলস, ফুড এন্ড বেভারেজ, সুগার, ওয়েল মিলস, ইত্যাদি এসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে কথা বলতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে কমিশন তাদের নহে এটা বীমা এজেন্ট বা বীমা কর্মীদের। বীমা ট্যারিফ কমিয়ে ক্ষেত্র ভেদে তাদের ৩০%-৪০% প্রিমিয়াম কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পেপার পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জোড়েসোড়ে প্রচার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার নেতাদের দিয়ে টকশো এর আয়োজন করতে হবে। ব্যবসায়ীরা বীমা কোম্পানীসহ ব্যাংক এবং সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক; তাদের সহযোগীতা ছাড়া এই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নহে। প্রয়োজনে সমাজের বিজ্ঞজনদের আলোচনায় এবং লেখালেখিতে সংযুক্ত করা যেতে পারে। প্রতিটি টিভি চ্যানেলের স্ক্রলে, টিভির বিজনেস নিউজে বছর ব্যাপী প্রচারনার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বাড়বে বীমার সম্মান, সরকার পাবে তার প্রাপ্য রাজস্ব। বীমা কোম্পানী এবং বীমায় কর্মরত সকলে হবে উপকৃত। ধন্য হবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের সকল উদ্যোগ। আমরা নন-লাইফ বীমা শিল্পের সকল সিইওগন নির্দেশনা বাস্তবায়নে কান্ডারী হয়ে থাকবো। শেষে বলতে হয়ঃ

As long as you feel pain you’re still alive, as long as you make mistakes you are still human, And

as long as you keep trying there’s still hope. 


লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও
ইসলামী কমাশিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোং লিঃ


রিটেলেড নিউজ

রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব

রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব

Bank Bima Shilpa

ব্যারিস্টার নুসরত জাহান তানিয়া: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অসংখ্য সমস্যার মধ্য... বিস্তারিত

২০২১ বীমা পেশার যথাযথ নার্সিং ও স্বীকৃতির বছর

২০২১ বীমা পেশার যথাযথ নার্সিং ও স্বীকৃতির বছর

Bank Bima Shilpa

মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ বীমা শিল্প এখন বিকাশমান। বীমা নিয়ে অতীতে অনেক নেতিবাচক কথা হলেও সেটা অনেক... বিস্তারিত

বরিশাল জেলায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত সামছুন্নাহার বেগম

বরিশাল জেলায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত সামছুন্নাহার বেগম

Bank Bima Shilpa

  মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি ॥ আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২০ এ ... বিস্তারিত

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ইন্তেকাল

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ইন্তেকাল

Bank Bima Shilpa

  নিজস্ব প্রতিবেদক     দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ার... বিস্তারিত

না ফেরার দেশে চলে গেলেন  কিংবদন্তি লতিফুর রহমান

না ফেরার দেশে চলে গেলেন  কিংবদন্তি লতিফুর রহমান

Bank Bima Shilpa

  নিজস্ব প্রতিবেদক: না ফেরার দেশে চলে গেলেন  কিংবদন্তি লতিফুর রহমান। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১... বিস্তারিত

মোহাম্মদ নাসিম আর নেই

মোহাম্মদ নাসিম আর নেই

Bank Bima Shilpa

   নিজস্ব প্রতিবেদক      ফাইল ছবি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

টেকসই অর্থনীতির অন্যতম উপাদান বীমা-হাসান তারেক, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা : কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড

টেকসই অর্থনীতির অন্যতম উপাদান বীমা-হাসান তারেক, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা : কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড

Bank Bima Shilpa

হাসান তারেক, নন-লাইফ বীমা সেক্টরের অভিজ্ঞতালব্দ, হাসোজ্জ্যল ও সদালাপী একজন উদীয়মান বীমা ব্যক্তিত... বিস্তারিত

চট্টগ্রামের শান্তির হাটে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের ১৯৬তম শাখার উদ্বোধন

চট্টগ্রামের শান্তির হাটে আল-আরাফাহ্ ব্যাংকের ১৯৬তম শাখার উদ্বোধন

Bank Bima Shilpa

ডেস্ক রিপোর্ট: চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাটে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ১৯৬তম শ... বিস্তারিত

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’র অগ্নি বীমা দাবী পরিশোধ

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’র অগ্নি বীমা দাবী পরিশোধ

Bank Bima Shilpa

ডেস্ক রিপোর্ট : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন লাইফ বীমা খাতের কোম্পানী কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ল... বিস্তারিত

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মাধবদী শাখার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম উদযাপন

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মাধবদী শাখার উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম উদযাপন

Bank Bima Shilpa

ডেস্ক রিপোর্ট: পরিবেশ বান্ধব দেশ গড়ার লক্ষ্যে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সাধ্য মত বিভিন্ন ধ... বিস্তারিত