ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ, প্রতিকার ও সতর্কতা

Bank Bima Shilpa    ১২:৪৯ এএম, ২০১৯-০৯-১৭    267


 ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ, প্রতিকার ও সতর্কতা

 


ডেঙ্গু জ্বর একটি এডিস মশা বাহিত ভাইরাস জনিত গ্রীষ্মমন্ডলীয় ব‍্যাধি। ব‍্যাধিটির উপসর্গগুলির মধ্যে আছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি এবং গিটে ব্যাথা, এবং একটি বৈশিষ্ট্য ত্বকে র‍্যাশ যা হামজ্বরের সমতুল্য। স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‍্যাজিক ফিভার-এ পর্যবসিত হয় ,যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অনুচক্রিকার কম মাত্রা এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ অথবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম-এ পর্যবসিত হয়, যেখানে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম থাকে।

ডেঙ্গু জ্বর, এর উপসর্গ, প্রতিরোধ, প্রতিকার, সতর্কতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিতভাবে বলেছেন রাজধানীর মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টারে রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গুলজার হোসেন। 

প্রশ্ন: ডেঙ্গু কি এবং ডেঙ্গু কিভাবে ছড়ায়?

ডা. গুলজার: ২০ বছর আগে বাংলাদেশে এই ডেঙ্গুটা অপরিচিত ছিল। আমরা এ সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না। এটুকু জানতাম যে নতুন ভাইরাস আসছে, জ্বর, অনেকে মারা যাচ্ছে।

ডেঙ্গু, এডিস’র বিভিন্ন প্রকার মশাদ্বারা পরিবাহিত হয়। এডিশ মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। বিশেষ করে বিকেল বেলায়। মশা নিধন হচ্ছে না বলে এই রোগ ঠেকানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় এর মারাত্মক প্রভাব রয়েছে। 

মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস, বিশেষ করে গরম ও বর্ষার সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। এ বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে ডেঙ্গু জ্বর বেশি হচ্ছে। শীতকালে সাধারণত এই জ্বর হয় না বললেই চলে। শীতে লার্ভা অবস্থায় এই মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত মশা বিস্তার লাভ করে। 

প্রশ্ন: ডেঙ্গুর উপসর্গ কি কি?

ডা. গুলজার: প্রথমে জ্বর হয়। এতে ঘাড়ে ব্যথা, সর্দিভাব, চোখ ব্যথা, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, সমস্ত দেহে ব্যথা হয়। তবে দু তিন বছর ধরে এমন কিছু রোগী আমরা পাচ্ছি যাদের জ্বর খুব বেশি হয় না। সেই সাথে তাদের মধ্যে ঐ সব উপসর্গও দেখি না।

প্রশ্ন: ডেঙ্গুর চিকিৎসা কি?

ডা. গুলজার: এই রোগের জন্য তেমন কোন ওষুধ নেই। এ সব রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। এ সময় কোন খাবারে নিষেধাজ্ঞা নেই তবে পানি বেশি পরিমানে পান করতে হবে। ফল খেতে হবে। রোগীকে পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। 

জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল গ্রুপের ওষুধ ছাড়া ব্যথানাশক অ্যাসপিরিন বা ক্লোফেনাকজাতীয় ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এতে রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে। রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা মাত্র হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। কারও ডেঙ্গু জ্বর হলে মশারি ব্যবহার করে রোগীকে আলাদা রাখতে হবে যাতে অন্যরাও রক্ষা পাবেন।

রক্তের মধ্যে পানি ও সেল থাকে। দেহের রক্ত নালির মধ্যে ছিদ্র থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের সময় ছিদ্রগুলো বড় হয়ে যায়। এই বড় ছিদ্র দিয়ে রক্তক্ষরণ বেশি হতে পারে। এই লিকেজ বা ছিদ্র বড় হওয়াই বড় ধরেনে সমস্যা।

ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে আমরা রক্ত পরীক্ষা করি। দেখি যে ব্লাড প্রেসার বেড়েছে কিনা। প্যাক্ট সেল ভেনিয়ম বেড়ে গেলে ও ব্লাড প্রেসার কমে গেলে রোগীকে হাসপাতালে আনতে হবে। 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীর জন্য জটিলতা দেখা দেয়। বুকে ব্যাথা হচ্ছে যা ডেঙ্গু মায়োকাডাইটিজ। অজ্ঞান হতে পারেন যা ডেঙ্গু এনকালাইটিজ। লাঞ্চের ভেতরে রক্তক্ষরণ যা ডেঙ্গু পাল মনোরিইটিসোরাইজ। এই গুলো হলো মারাত্মক অবস্থা।

 ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যান। এমনকি কোনো চিকিৎসা না করালেও। তবে রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হবে।

কিছুটা ভুল চিকিৎসাও হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত পানীয় ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনে রক্ত দেওয়া হচ্ছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঠিক না। এগুলো রোগকে আরও জটিল করে তোলে। মনে রাখতে হবে মানুষের দেহ বাইরের কোন কিছু সহজে নিতে চায় না। বিশেষ করে অন্য মানুষের দেহের কোন উপাদান। আপনার দেহে প্যারাসিটামল দেওয়া যতটা সহজ তার চেয়ে ততটা কঠিন এক দেহ থেকে অন্য দেহে রক্ত নেওয়া। তবে প্লেইটলেট খুব কমে গেলে (১০০০০ এর নীচে) বা সক্রিয় রক্তক্ষরণ হলে প্লেইটলেট দিতে হবে। অবশ্যই চিকিৎসক যদি মনে করেন । অনেক সময় রোগী শক সিমটমে চলে যায় এবং তাকে বাঁচানো কঠিন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরও কঠিন। এটাও মাথায় রাখতে হবে।

প্রশ্ন: ডেঙ্গু রোগ এড়িয়ে চলতে হলে কি ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে? 

ডা. গুলজার: দিনের বেলায় ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে মশারী ব্যবহার করতে হবে। মশার বিস্তার না হয় এমন দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জানালায় নেট ব্যবহার করতে হবে। ফ্রিজ, এসিতে যে পানি জমে তা পরিষ্কার করতে হবে। ফুল গাছের টব, টায়ার, কমোড, বালতিতে বৃষ্টির পানি পড়ে তিন দিনের বেশি জমে থাকলে এডিশ মশা জন্মায়। বর্ষাকালে মশার বংশ বিস্তার হয়। মশার বংশ বিস্তার রোধে ওষুধ ছিটাতে হবে। বসন্তকালেও কিন্তু আমরা ডেঙ্গু রোগী পেয়ে থাকি।

প্রশ্ন: ডেঙ্গু রোগ ছড়ানো ও মশার বংশ বিস্তার রোধে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ডা. গুলজার: সব চেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের সচেতনতা। তবে শহরে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ কমাতে এডিশ মশার বংশ বিস্তার রোধে সব চেয়ে বড় দায়িত্ব হলো সিটি করপোরের্শন বা মিউনিসিপ্যালিটির। মশার বংশ বিস্তার রোধে কাজ করতে হবে, যেমন ডোবা নালা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। নগরী জুড়ে মশার ওষুধ ছিটাতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে, যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। দিনের বেলা শরীরে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে বের হতে হবে, প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাচ্চাদের যারা স্কুলে যায়, তাদের হাফ প্যান্ট না পরিয়ে ফুল প্যান্ট পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে। মশা নিধনের স্প্রে, কয়েল, ম্যাট ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করতে হবে।


রিটেলেড নিউজ

জীবন বীমার প্রসার ঘটাতে মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স’র বিকল্প নেই

জীবন বীমার প্রসার ঘটাতে মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স’র বিকল্প নেই

Bank Bima Shilpa

ডাঃ কিশোর বিশ্বাস মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ... বিস্তারিত

ঘরে ঘরে জীবন বীমা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবী

ঘরে ঘরে জীবন বীমা পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবী

Bank Bima Shilpa

এস এম জিয়াউল হক - মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এস এম জি... বিস্তারিত

বীমা হচ্ছে জনগনের সেবা করা, সেবার মনোভাব নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে- জামাল এম এ নাসের, মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড

বীমা হচ্ছে জনগনের সেবা করা, সেবার মনোভাব নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে- জামাল এম এ নাসের, মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড

A. B. Howlader

  জীবন বীমা জগতের এক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব জামাল এম আবু নাসের। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের লাইফ ইন... বিস্তারিত

জনগণ চায় তাদের ট্যাক্সের টাকা যাতে সরকার পায়

জনগণ চায় তাদের ট্যাক্সের টাকা যাতে সরকার পায়

Admin

  চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই আই... বিস্তারিত

‘কখনো আইনের বাইরে যাইনি’

‘কখনো আইনের বাইরে যাইনি’

Bank Bima Shilpa

শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দীর্ঘ ৮ বছ... বিস্তারিত

সর্বশেষ

সেরা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য শাহ্জালাল ব্যাংকের আইসিএবি অ্যাওয়ার্ড অর্জন

সেরা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য শাহ্জালাল ব্যাংকের আইসিএবি অ্যাওয়ার্ড অর্জন

Bank Bima Shilpa

ব্যাংক বীমা শিল্প ডেস্ক: ২০১৯ সালের সেরা বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাং... বিস্তারিত

আল-আরাফাহ্ ব্যাংক এর সৌজন্যে ডিআরইউতে মোটরবাইক শেড উদ্বোধন

আল-আরাফাহ্ ব্যাংক এর সৌজন্যে ডিআরইউতে মোটরবাইক শেড উদ্বোধন

Bank Bima Shilpa

  আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এর সৌজন্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গনে মোটরব... বিস্তারিত

বৃত্তি প্রদান করল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক 

বৃত্তি প্রদান করল শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক 

Bank Bima Shilpa

  করোনাকালেও দেশের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহযোগিতা হিসেবে ৫১৫জন শিক্ষার্থীকে ... বিস্তারিত

 গ্রাহকদের বীমা দাবী পরিশোধ করুন পরে লাইফ ফান্ড,মুলধন বৃদ্ধি করুন : বিএম ইউসুফ আলী

 গ্রাহকদের বীমা দাবী পরিশোধ করুন পরে লাইফ ফান্ড,মুলধন বৃদ্ধি করুন : বিএম ইউসুফ আলী

Bank Bima Shilpa

  নিজস্ব প্রতিবেদক: আগে বীমা গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইন্স... বিস্তারিত